User:সাইমন এ্যাড
গফরগাঁওয়ে চাঁদাবাজীর দৌরাত্ম্য: জনজাগরণের অনুসন্ধানে চিত্র ভয়াবহ
স্টাফ রিপোর্টার, জন জাগরণ | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা আজ চাঁদাবাজীর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। রিকশা থেকে শুরু করে ছোট-বড় যেকোনো যানবাহন—সবকিছুকেই চাঁদার বোঝা বইতে হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি প্রশাসন। ফলে সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ঠ, ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
প্রবেশ মানেই চাঁদা
জন জাগরণের নিজস্ব প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছেন, উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশমুখে ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রকাশ্যে চলছে চাঁদাবাজী। দিনভর চলাচলকারী রিকশা, ভ্যান, সিএনজি, অটোরিকশা থেকে শুরু করে পিকআপ, ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস পর্যন্ত কেউই এ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। চালকরা বলেন, নির্ধারিত হারে টাকা না দিলে চলাচলে বাধা দেয়া হয়, কখনো কখনো ভয়ভীতি ও হুমকির মুখেও পড়তে হয়।
আইন যেন কাগজে-কলমে
গফরগাঁওবাসীর অভিযোগ, এই অঞ্চলে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজ চক্রের চোখে আইন কেবলই ‘মুড়ির মোয়া’। প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলেও তারা কার্যত কোনো ভূমিকা রাখছে না। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন রক্ত-ঘামে উপার্জিত টাকা দিয়ে যাচ্ছি। অথচ যারা আমাদের রক্ষা করবে, তারাই নিশ্চুপ। এটা কি ন্যায়বিচার?”
শোষণ থামেনি, বেড়েছে
বাসিন্দারা মনে করছেন, স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও দেশে শোষণ-স্বৈরাচারের শৃঙ্খল গফরগাঁওয়ে শেষ হয়নি। বরং দিন দিন এ অঞ্চলে তা বেড়েই চলেছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকে হতাশ হয়ে জানান, তারা এ পরিবেশে স্বাভাবিক জীবনযাপন বা সৎ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন না।
প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ
চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ মনে করছে, প্রশাসন হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই চোখ বন্ধ করে আছে। ফলে গফরগাঁও দিন দিন অরাজকতার জনপদে পরিণত হচ্ছে।
গফরগাঁওবাসীর দাবি
এলাকার প্রবীণরা বলেন, “আমরা চাই শান্তি। আমাদের সন্তানদের জন্য সন্ত্রাস-চাঁদাবাজী মুক্ত একটি উপজেলা গড়ে উঠুক। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, অবিলম্বে দমন করা হোক এ অপকর্ম।”